পলাশবাড়ী রামমূর্তি: নেপথ্যে কী?

প্রচ্ছদবার্তা ও বিবৃতি

পলাশবাড়ী রামমূর্তি: নেপথ্যে কী?

Download & Read

بسم الله الرحمن الرحيم

যাবতীয় প্রশংসা সেই মহান সত্তার, যিনি আসমান ও জমিনের একমাত্র অধিপতি এবং সকল ক্ষমতার উৎস। অগণিত দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক মানবতার মুক্তির দিশারী, সায়্যিদুল মুরসালীন নবী মুহাম্মদ ﷺ এর ওপর, তাঁর পবিত্র পরিবার ও সম্মানিত সাহাবাগণের ওপর।

ভূ-রাজনীতির দাবার ছকে কিছু ভূখণ্ডের গুরুত্ব তাদের আয়তনে নয়, বরং অবস্থানে নির্ধারিত হয়। ভারতের শিলিগুড়ি করিডোর, যা অধিক পরিচিত ‘চিকেন নেক’ নামে, তেমনই একটি ভূখণ্ড। মাত্র কয়েক কিলোমিটার প্রশস্ত এই সরু স্থলপথ ভারতের মূল ভূখণ্ডকে তার আটটি উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যের সঙ্গে সংযুক্ত করে রেখেছে। মানচিত্রে এটি যেন একটি রাষ্ট্রের ধমনীর মতো- যার ওপর নির্ভর করে যোগাযোগ, বাণিজ্য, প্রশাসন ও সামরিক সরবরাহের প্রবাহ।

ভারতের মাথাব্যথা

মাত্র ২২ কিলোমিটার সরু এই করিডোরের উত্তরে রয়েছে চীনের তিব্বত, কাছাকাছি নেপাল, ভুটান, দক্ষিণ পশ্চিমে বাংলাদেশ। বাংলাদেশে মুসলিমদের ভারতবিরোধী মনোভাব নতুন করে ভারতীয় নীতিনির্ধারকদের চিকেন নেক নিয়ে বসতে বাধ্য করেছে।  চিকেন নেক বা শিলিগুড়ি করিডোর হয়ে উঠেছে তাদের মাথাব্যথার অন্যতম কারণ।

মাথাব্যথার সমাধান

তাদের সেই মাথাব্যথার সমাধান দিয়েছেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা বোর্ডের সাবেক সদস্য, পরমাণুনীতি লেখকদের একজন, দিল্লির সেন্টার ফর পলিসি রিসার্চ- এ ইমেরিটাস অধ্যাপক ভারত কার্নাড। সে লিখেছে: “ইন্ডিয়ার উচিত সামরিকভাবে বাংলাদেশ থেকে রংপুর বিভাগকে ছিনিয়ে নিয়ে বালুরঘাট গাইবান্ধা রেখা বরাবর সীমান্তটা সোজা করে ফেলা।” তার মতে, “প্রথমত রংপুরকে বাংলাদেশ থেকে কিনে নেয়ার চেষ্টা করতে হবে। যদি বাংলাদেশ এতে রাজি না হয় তাহলে সামরিকভাবে হামলা চালিয়ে রংপুরকে ছিনিয়ে নিতে হবে।” শুধু এতটুকুই নয়। তার মতে, “রংপুর দখলের পর জনসংখ্যা বিনিময় করতে হবে। অর্থাৎ রংপুরের এক কোটি আশি লাখ জনতাকে বাংলাদেশে ঠেলে দিয়ে বাংলাদেশের এক কোটি ত্রিশ লাখ হিন্দুকে রংপুরে স্থায়ী করতে হবে।” রংপুর ভারতের হাতে চলে গেলে চিকেন নেক নিয়ে আর দুশ্চিন্তা করতে হবে না। কারণ তখন চিকেন নেক আর বর্তমানের মত সরু থাকবে না বরং তা হবে যথেষ্ট প্রশস্ত একটি অঞ্চল।

পলাশবাড়ী রামমূর্তি

আপনাদের কি ভারত কার্নাডের সেই কথাটি মনে আছে? “ভারতকে বালুরঘাট গাইবান্ধা রেখা বরাবর সীমান্তটা সোজা করে ফেলতে হবে।” জ্বি ঠিকই ধরেছেন। পলাশবাড়ীর রাম মন্দির সেই রেখাতেই পড়েছে। গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ীতে রাম মন্দির স্থাপন, সনাতন ধর্মীয় কমপ্লেক্স রংপুর দখলের ষড়যন্ত্রের বিশাল হিমশৈলের ক্ষুদ্র একটি দৃশ্যমান অংশ।

সেখানে শুধু রামমূর্তি স্থাপিত হয়েছে এমনটা নয়, সেখানে আগেই একটি কৃষ্ণ মন্দির স্থাপিত হয়েছে। কৃষ্ণমূর্তিটি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম কৃষ্ণমূর্তি, আর যে রামমূর্তিটি স্থাপিত হচ্ছে তা হবে বিশ্বের সবচেয়ে বৃহত্তম রামমূর্তি, সাথে রয়েছে একটি কালী মন্দির। রামমূর্তি, কৃষ্ণমূর্তি উদ্বোধন করেছে ভারতীয় হাই কমিশনার। পাশাপাশি ঐ স্থানে সমারোহে আয়োজিত হচ্ছে হিন্দুদের বিভিন্ন সভা, সেমিনার। সব মিলিয়ে নাজুক এই জায়গাটিকে একটি হিন্দুত্ববাদের আখড়ায় রূপান্তর করা হচ্ছে যাতে তা দখল করা সহজ হয়৷

আপনি ধারণা করতে পারেন পলাশবাড়ীতে হয়তো হিন্দুদের সংখ্যা বেশি তাই এসব মূর্তি মন্দির নির্মাণ করা হচ্ছে। উত্তরটি হচ্ছে “না”। পলাশবাড়ীর মোট জনসংখ্যার ৬.০৪% হিন্দু। অর্থাৎ এটি এদেশের সবচেয়ে কম হিন্দু অধ্যুষিত এলাকার মধ্যে একটি। শুধুমাত্র ভারতীয় ষড়যন্ত্রের দাবার গুটি হিসেবে এসব মন্দির মূর্তি স্থাপন করা হচ্ছে।

ভারত আসলে কী চায়

ভারত চায় হিন্দু মুসলিম দাঙ্গা। এটি ভারতের দাবার সেই নিকৃষ্ট গুটি যা তারা বারবার মাজলুমের উপর চেলেছে। ১৯৪৭ সালে ভারত পাকিস্তান বিভক্ত হয়। হায়দ্রাবাদ, জুনাগর, কাশ্মীর, গোয়া ইত্যাদি রাজ্য সিদ্ধান্ত নেয় তারা স্বাধীন থাকবে। ভারত পাকিস্তান কারো সাথেই যোগ দিবে না। হায়দ্রাবাদের শাসক ছিল তৎকালীন বিশ্বের অন্যতম সম্পদশালীদের একজন। ভারতের কালো চোখ পড়ে হায়দ্রাবাদের উপর। হায়দ্রাবাদের উপর অভিযোগ তোলা হয় সংখ্যালঘু নির্যাতন, মন্দির ভাঙচুর ইত্যাদির। সবশেষে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার অজুহাতে ভারত হায়দ্রাবাদ আক্রমণ করে,হত্যা করে হাজারো মুসলিমদের, ধর্ষিত হয় উম্মাহর ইজ্জ্বত মা বোনেরা, ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়।  এভাবে ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর মাধ্যমে ভারত হায়দ্রাবাদকে দখল করে তাদের প্রদেশে রূপান্তর করে। জুনাগরও হায়দ্রাবাদের মতো সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার অজুহাতে দখল করা হয়। গোয়াতে তারা আরো একধাপ এগিয়ে, হিন্দু এক জেলের নৌকাতে আগুন লাগানোর অজুহাতে তারা গোয়া দখল করে। সিকিম দখলের ঘটনায় তো কুকুর বিড়ালও লজ্জায় মাথা ঢাকতে চাইবে।

যে দাবার গুটি ভারত হায়দ্রাবাদ, জুনাগর, গোয়াতে চলেছে একই গুটি তারা বাংলাদেশেও চালতে চায়। তাদের এই দেশীয় পাপেট চৈতালীর আলাদা প্রদেশ গঠনের হুমকি, হিন্দু মহাজোটের পলাশ কান্তির মুসলিমদের গাইবান্ধা ছেড়ে অন্য জেলায় চলে যাওয়ার হুমকি, হিন্দুদের অস্ত্র নিয়ে জয় শ্রীরাম স্লোগান তুলে মুসলিমদের মৌলবাদী বলে হত্যার হুমকিসহ যাবতীয় ঔদ্ধত্যপূর্ণ কর্মকাণ্ডের প্রধান লক্ষ্য একটাই। তাহলো এসব হুমকি ধমকির মাধ্যমে হিন্দু মুসলিম দাঙ্গা লাগানো। দাঙ্গা লেগে গেলে ভারত বিশ্ববাসীর কাছে বলবে: “দেখুন, বাংলাদেশের হিন্দু নির্যাতন হচ্ছে, মন্দির ভাঙ্গা হচ্ছে। আমাদের হাতে এখন আর কোন অপশন নেই। হিন্দুদের রক্ষায় বাংলাদেশ আক্রমণ করতে হবে।”

এভাবেই তারা দাঙ্গার অজুহাত দিয়ে সামরিক অভিযানের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে রংপুর দখল করতে চায় এবং পর্যায়ক্রমে পুরো বাংলাদেশ।

সীমান্তে ভারতের সামরিক প্রস্তুতি

শিলিগুড়ি করিডোর ডেভলপমেন্ট প্রজেক্ট। নাম শুনে মনে হতে পারে শিলিগুড়ি করিডোর বা চিকেন নেক এলাকার উন্নয়নমূলক প্রজেক্ট। কিন্তু আসল কথা অন্য কিছু।

এই প্রজেক্টের আওতায় দিল্লি থেকে সোজা নিউ জলপাইগুড়ি পর্যন্ত বুলেট ট্রেন চালু হচ্ছে। কিন্তু হঠাৎ করেই উত্তর দিনাজপুরের তিন মাইল হাট থেকে রাঙ্গাপানি হয়ে বাগডোগরা পর্যন্ত সেই রেললাইন আর মাটির উপরে থাকবে না। তা চলে যাবে মাটির নিচে অর্থাৎ পাতাল রেললাইন। যদিও বলা হচ্ছে এলাকার উন্নয়নমূলক কাজের অংশ হিসেবে এই রেললাইন চালু করা হচ্ছে। কিন্তু মূল লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায় সহজে মিলিটারি ইকুইপমেন্ট বহনের জন্য এই রেললাইনের চালু। এজন্যই মাটির নিচে রেললাইন যাতে তা রাডারে ধরা না পড়ে আর সহজে ধ্বংস করা না যায়।

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী জাতীয় মহাসড়ক কোন বাক্যব্যয় ছাড়াই কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে হস্তান্তর করেছে। বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী  জঙ্গিপুর, বনগাঁ, কৃষ্ণনগর, বসিরহাট, ঘোজাডাঙ্গা, চেংরামারা এবং ভুটান সীমান্তবর্তী হাসিমারা, জয়গাঁও এখন ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার নিয়ন্ত্রণ করবে।  এসব স্থানে তৈরি করা হচ্ছে সামরিক মহাসড়ক, সামরিক রানওয়ে। যদিও ভারত বলছে অবকাঠামগত উন্নয়ন কিন্তু এটি ভারতের বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধের আগাম প্রস্তুতি। বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এসব রানওয়ে দিয়ে সহজেই যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে সামরিক সরঞ্জাম পরিবহন করা যাবে।

আমাদের করণীয়

হে প্রিয় উম্মাহ, বাংলাদেশে ইসলাম ও মুসলিমের ভাগ্যাকাশে আজ কালো মেঘ ঘনীভূত হয়েছে। ভারত এদেশকে দখল করে বৃহৎ রামরাজত্ব প্রতিষ্ঠার স্বপ্নে বিভোর। ভারতের এই আগ্রাসন থেকে মুক্তির একটাই পথ আল্লাহর দেয়া বিধান ক্বিতাল ফী সাবিলিল্লাহ। একমাত্র এই পথেই ভারতের গালে চপোটাঘাত করা সম্ভব। তাই আসুন অলসতার সমস্ত মরিচা ঝেড়ে ফেলে  জিহাদ ক্বিতালকে আঁকড়ে ধরি। নিজে ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে ক্বিতালে অংশগ্রহণ করি এবং সেই ক্বিতালের জন্য অন্যকেও সাথী হিসেবে আহ্বান করি।

মহান আল্লাহ আমাদের শত্রুর সকল ষড়যন্ত্র থেকে হেফাজত করুন। হিন্দুত্ববাদের আস্ফালন থামিয়ে দেয়ার তৌফিক দান করুন। জিহাদ ক্বিতালের পথকে আঁকড়ে ধরার তৌফিক দান করুন। আমীন

– শাইখ আবু আবদুল্লাহ আল হিন্দি হাফিঃ
মুখপাত্রঃ জামা’আতুল মুজাহিদীন

মন্তব্য

WORDPRESS: 0