بسم الله الرحمن الرحيم
الله أكبر، الله أكبر، الله أكبر، لا إله إلا الله، الله أكبر، الله أكبر ولله الحمد.
الله أكبر كبيراً، والحمد لله كثيراً، وسبحان الله بكرة وأصيلا.
যাবতীয় প্রশংসা সেই মহান রব্বুল আলামীনের জন্য, যিনি তাঁর মুমিন বান্দাদের জন্য রমাদ্বনের সিয়াম ও পালনের তাওফিক দিয়েছেন এবং এই মোবারক ঈদকে উম্মাহর জন্য আনন্দ, ভ্রাতৃত্ব ও বিজয়ের প্রতীক করেছেন।
দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সাইয়্যিদুল মুরসালিন ও ইমামুল মুজাহিদিন, আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ (ﷺ), তাঁর পরিবার, সাহাবায়ে কেরাম এবং কিয়ামত পর্যন্ত তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণকারী সকলের ওপর।
تقبل الله منا ومنكم، وعيد مبارك.
“আল্লাহ আমাদের এবং আপনাদের পক্ষ থেকে (নেক আমলসমূহ) কবুল করুন। ঈদ মোবারক।”
সমগ্র বিশ্বের মুসলিম উম্মাহ এবং বিশেষ করে তাগুত ও কুফরের বিরুদ্ধে রণাঙ্গনে অতন্দ্র প্রহরীর ন্যায় দাঁড়িয়ে থাকা আমাদের মুজাহিদ ভাইদের প্রতি পবিত্র ঈদুল ফিতর ১৪৪৭ হিজরির এই শুভক্ষণে জামা’আতুল মুজাহিদীন এর পক্ষ থেকে জানাচ্ছি আন্তরিক অভিনন্দন।
হে শ্রেষ্ঠ উম্মাহ!
এবারের ঈদ এমন এক ঐতিহাসিক ও ক্রান্তিলগ্নে আমাদের মাঝে উপস্থিত হয়েছে, যখন উম্মাহর শরীর ক্ষত-বিক্ষত। আমরা আনন্দ উদযাপন করছি ঠিকই, তবে আমরা এক মুহূর্তের জন্যও ভুলে যাইনি আমাদের প্রথম কিবলা পবিত্র আল-আকসা এবং ফিলিস্তিনের কথা। গাজার ধূলিস্যাৎ হওয়া প্রতিটি প্রান্তর এবং ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আজ মুমিনদের রক্ত আর বারুদের গন্ধ ভেসে আসছে। অপরদিকে, আরাকানের মজলুম মুসলিমদের আর্তনাদ আকাশ-বাতাস ভারী করে তুলেছে। আরাকানের অসহায় মা-বোন এবং শিশুদের ওপর বয়ে যাওয়া দীর্ঘমেয়াদী কাঠামোগত হত্যাযজ্ঞ ও বর্বরতা উম্মাহর হৃদয়ে এক দগদগে ঘা।
কিন্তু এতসব ধ্বংসস্তূপ, রক্তপাত ও বিশ্ব মোড়লদের প্রতারণার মাঝেও আমরা হতাশ নই। কারণ, আমাদের দ্বীন আমাদের শিখিয়েছে, বিপদের ঘোর অন্ধকারের পরপরই বিজয়ের সুবহে সাদিক উদিত হয়। মহান আল্লাহ তাঁর মহাগ্রন্থে সুস্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন:
وَقَاتِلُوهُمْ حَتَّىٰ لَا تَكُونَ فِتْنَةٌ وَيَكُونَ الدِّينُ كُلُّهُ لِلَّهِ
“আর তোমরা তাদের সাথে লড়াই কর, যে পর্যন্ত না ফিতনার অবসান হয় এবং দ্বীন (জীবনব্যবস্থা) সম্পূর্ণ রূপে আল্লাহর জন্য হয়ে যায়।” (সূরা আল-আনফাল: ৩৯)
হে মুসলিম ভাইয়েরা!
পশ্চিমা তথাকথিত ‘মডারেট’ বা আপসকামী আদর্শ দিয়ে এই উম্মাহর মুক্তি কখনোই সম্ভব নয়। শত্রুরা চায় আমরা যেন আমাদের জিহাদী চেতনা ভুলে গিয়ে তাদের শেখানো বানোয়াট শান্তির বুলি আওড়াই। কিন্তু আমাদের ফিরে যেতে হবে কুরআন ও সুন্নাহর বিশুদ্ধ মানদণ্ডে, সালাফ আস-সালেহীনের সেই সোনালী যুগে। যেখানে ‘আল-ওয়ালা ওয়াল-বারা’ ছিল ঈমানের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন:
تَرَى الْمُؤْمِنِينَ فِي تَراحُمِهِمْ وَتَوَادِّهِمْ وَتَعَاطُفِهِمْ كَمَثَلِ الْجَسَدِ، إِذَا اشْتَكَى عُضْوٌ تَدَاعَى لَهُ سَائِرُ جَسَدِهِ بِالسَّهَرِ وَالْحُمَّى
“মুমিনদের উদাহরণ তাদের পারস্পরিক ভালোবাসা, দয়া ও সহানুভূতির দিক থেকে একটি দেহের ন্যায়। যখন তার কোনো অঙ্গ অসুস্থ হয়, তখন পুরো শরীর অনিদ্রা ও জ্বরে আক্রান্ত হয়।” (সহীহ বুখারী: ৬০১১, মুসলিম: ২৫৮৬)
আজ ফিলিস্তিন ও আরাকানের ক্ষত আমাদের পুরো দেহের ক্ষত। এই ক্ষত নিরাময়ের একমাত্র পথ হলো আল্লাহর পথে জিহাদ। শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) বলেছেন, “দুনিয়া ও আখেরাতের যাবতীয় কল্যাণ নিহিত রয়েছে জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহর মাঝে।” তাই আপস নয়, বরং জিহাদই আমাদের অস্তিত্ব রক্ষার একমাত্র ঢাল।
জালিমদের প্রতি সতর্কবার্তা:
দখলদার ইহুদিবাদী শক্তি, আরাকানের মুশরিকগোষ্ঠী এবং তাদের মদদপুষ্ট পশ্চিমা তাগুতদের আমরা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিতে চাই- তোমাদের জুলুমের দিন ফুরিয়ে আসছে। শহীদদের প্রতিটি রক্তবিন্দু আমাদের জিহাদের প্রস্তুতিকে আরও শানিত করছে। তোমরা তোমাদের সমরাস্ত্র নিয়ে যতই অহংকার করো না কেন, আসমান ও জমিনের বিশাল বাহিনী কেবল পরাক্রমশালী আল্লাহরই নিয়ন্ত্রণে।
মহান আল্লাহ বলেন:
إِنَّ بَطْشَ رَبِّكَ لَشَدِيدٌ
“নিশ্চয়ই তোমার রবের পাকড়াও বড়ই কঠিন।” (সূরা আল-বুরুজ: ১২)
পরিশেষে, আমরা আল্লাহর দরবারে কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা করি:
হে আল্লাহ! আপনি ফিলিস্তিন, আরাকান, কাশ্মীর, সিরিয়া, পূর্ব তুর্কিস্তান, সোমালিয়া, মালিসহ বিশ্বের আনাচে-কানাচে নির্যাতিত মুসলিমদের সাহায্য করুন। আমাদের কারাবন্দী আলেম ও মুজাহিদ ভাইদের শৃঙ্খল মুক্ত করে দিন। এই ঈদুল ফিতরকে আমাদের জন্য শোকের পরিবর্তে শক্তি এবং বিজয়ের পয়গাম বানিয়ে দিন। উম্মাহকে আবার বিশুদ্ধ তাওহীদের ভিত্তিতে খিলাফতের ছায়াতলে সমবেত হওয়ার তাওফিক দান করুন।
والحمد لله رب العالمين، والعاقبة للمتقين. ولا عدوان إلا على الظالمين.
শাইখ আবু আব্দুল্লাহ আল হিন্দি (হাফিজাহুল্লাহ)
মুখপাত্র – জামা’আতুল মুজাহিদীন

মন্তব্য