Donload PDF
০১. আসাদুল ইসলাম আরিফ (রহিমাহুল্লাহ) এর শাহাদাতে জামা’আতুল মুজাহিদীন এর বিবৃতি
০২. রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর পরিচালিত গণহত্যায় জামা’আতুল মুজাহিদীন এর বিশেষ বিবৃতি
০৩. ট্রাম্প কর্তৃক জেরুজালেমকে ইজরাইলের রাজধানী ঘোষণায় জামা’আতুল মুজাহিদীন এর বিবৃতি
০৪. তেহরিকে তালিবান পাকিস্তান (TTP) এর আমীর মোল্লা ফজলুল্লাহ খোরাসানী (রহিমাহুল্লাহ) এর শাহাদাত প্রসঙ্গে বিবৃতি
০৫. শাইখুল মুজাহিদীন জালালুদ্দিন হাক্কানি (রহ.)-এর ইন্তেকালে জামা’আতুল মুজাহিদীন এর পক্ষ থেকে শোক বার্তা
০৬. জামা’আতুল মুজাহিদীন এর শীর্ষ পর্যায়ের জিম্মাদার শাইখ খোরশেদ আলম (মাস্টার) রহিমাহুল্লাহ কে ত্বাগুত বাহীনি কর্তৃক ক্রসফায়ার প্রসঙ্গে বিবৃতি
০৭. নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে বর্বরোচিত হামলায় তীব্র নিন্দা ও শহীদদের স্মরণে বিশেষ বিবৃতি
০৮. কায়েদাতুল জিহাদ ইসলামিক মাগরিব শাখার আমির কমান্ডার আব্দুল মালিক দ্রুকদেল (রহ:) এর শাহাদাতে বিবৃতি
০৯. বাবরি মসজিদের জমি জবরদখল ও হিন্দুত্ববাদী আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে বিশেষ বিবৃতি
১০. রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর শানে ফরাসি প্রেসিডেন্টের ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্যের প্রতিবাদে বিশেষ বিবৃতি
১১. প্রহসন মূলক বিচারের মাধ্যমে আসাদুজ্জামান পনির (রহিমাহুল্লাহ) এর হত্যাকান্ডে জামাআতুল মুজাহিদীনের বিবৃতি
১২. কাবুল বিজয়ে ইমারতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের প্রতি অভিনন্দন
১৩. বরকতময় তুফানুল আকসা উপলক্ষে শুভেচ্ছা বার্তা
১৪. ভারতে হিন্দুত্ববাদীদের হাতে মসজিদসমূহের শাহাদাত প্রসঙ্গে বিবৃতি
১৫. ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের আমির ইসমাইল হানিয়া (রহ.) এর শাহাদাত প্রসঙ্গে বিবৃতি
১৬. সিরিয়ায় আহলুস সুন্নাহর বিজয়ে জামাআতুল মুজাহিদীন এর শুভেচ্ছা বার্তা
১৭. নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অপূর্ব পাল কর্তৃক পবিত্র কুরআন গ্রন্থ অবমাননার ঘটনায় জামা’আতুল মুজাহিদীনের বিবৃতি
১৮. সুদানে নিরীহ মুসলিমদের উপর আরব জায়নবাদীদের চালানো পরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞ প্রসঙ্গে বিবৃতি
বিস্তারিত পড়ুন
০১. আসাদুল ইসলাম আরিফ (রহিমাহুল্লাহ) এর শাহাদাতে জামা’আতুল মুজাহিদীন এর বিবৃতি
তারিখ: ২৪ অক্টোবর, ২০১৬ ঈসায়ী । ২৩ মুহররম, ১৪৩৮ হিজরী
বিবৃতি নং- জিম.মিম_১৪৩৮_০০১
যাবতীয় প্রশংসা সেই মহান রব্বুল আলামিনের জন্য যিনি এক ও অদ্বিতীয়, যার কোনো শরিক নেই।
দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সেই মহান মানবের প্রতি যিনি আমাদেরকে প্রকৃত মুক্তির পথ দেখিয়ে গিয়েছেন।
আল্লাহ রব্বুল আলামিন তার পবিত্র কিতাবে বলেন,
“আর যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়, তাদেরকে মৃত বলো না; বরং তারা জীবিত, কিন্তু তোমরা তা বোঝো না।” [সূরা বাক্বরা:১৫৪]
অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে আমরা আমাদের প্রিয় ভাই এবং জামা’আতুল মুজাহিদীন পরিবারের একনিষ্ঠ কর্মী আসাদুল ইসলাম আরিফ এর শাহাদাতের সংবাদ দিচ্ছি। আল্লাহর শরিয়াহকে অপমানকারী এবং ব্রিটিশ আইনকে রক্ষাকারী ২ বিচারকের হত্যার কথিত অপরাধে এই আল্লাহ দ্রোহী রাষ্ট্র ব্যবস্থা তাকে গত ১৬ অক্টোবর, ২০১৬ তারিখে খুলনা কেন্দ্রীয় কারাগারে ফাঁসি দেয়।
আমরা এই বর্বরোচিত ও কাপুরুষোচিত হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। এই ঘটনা কেবল একটি প্রাণের বিনাশ নয়, বরং সত্যের কণ্ঠরোধ করার এক জঘন্য প্রচেষ্টা।
আমরা মহান আল্লাহর কাছে আমাদের ভাইয়ের জন্য জান্নাতুল ফেরদাউস কামনা করছি। একইসাথে তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। আল্লাহ তাদের এই কঠিন সময়ে ধৈর্য ধারণ করার তৌফিক দান করুন।
আমাদের এই জিহাদ কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নয়, বরং মিথ্যার বিরুদ্ধে সত্যের এবং কুফরের বিরুদ্ধে ইমানের। ফাঁসির দড়ি দিয়ে ইসলামের সৈনিকদের ভয় দেখানো সম্ভব নয়। একজন আরিফের শাহাদাতে আরোও হাজারো আরিফ এই বাংলার ভূমিতে জন্ম নিবে ইনশা আল্লাহ।
০২. রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর পরিচালিত গণহত্যায় জামা’আতুল মুজাহিদীন এর বিশেষ বিবৃতি
তারিখ: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ঈসায়ী । ০৫ মুহররম, ১৪৩৯ হিজরী
বিবৃতি নং- জিম.মিম_১৪৩৯_০০১
যাবতীয় প্রশংসা সেই মহান রব্বুল আলামিনের জন্য যিনি এক ও অদ্বিতীয়, যার কোনো শরিক নেই।
দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সেই মহান মানবের প্রতি যিনি আমাদেরকে প্রকৃত মুক্তির পথ দেখিয়ে গিয়েছেন।
মহান আল্লাহ তার পবিত্র কিতাবে বলেন,
“আর তোমাদের কী হলো যে, তোমরা আল্লাহর পথে লড়াই করছ না অসহায় পুরুষ, নারী ও শিশুদের জন্য? যারা বলছে হে আমাদের রব! আমাদের এই জনপদ থেকে বের করে নিন, যার অধিবাসীরা জালেম।” (সূরা নিসা:৭৫)
মিয়ানমারের আরাকান (রাখাইন) রাজ্যে আমাদের মাজলুম রোহিঙ্গা ভাই-বোনদের ওপর বৌদ্ধ সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ও দেশটির সামরিক জান্তা যে ভয়াবহ গণহত্যা, ধর্ষণ এবং উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে, আমরা তার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছি। কয়েক দশক ধরে চলমান এই পদ্ধতিগত নিধনযজ্ঞ এখন চূড়ান্ত রূপ নিয়েছে, যা আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম কলঙ্কজনক অধ্যায়। এটি কেবল কোনো দাঙ্গা নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে মুসলিমদের নাম-নিশানা মুছে ফেলার এক মহাপরিকল্পনা। হাজার হাজার ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া, নিষ্পাপ শিশুদের হত্যা এবং নারীদের ওপর পাশবিক নির্যাতন কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।তথাকথিত মানবাধিকার সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যখন কেবল শোক প্রকাশ আর আলোচনার টেবিলে সীমাবদ্ধ, তখন আরাকানের নদীগুলো মুসলিমদের রক্তে লাল হচ্ছে। আমরা মনে করি, এই মুশরিক খুনিদের আরও উৎসাহিত করছে।
আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, যখন কোনো ভূখণ্ডের মুসলিমরা জীবন ও সম্ভ্রম বাঁচাতে আর্তনাদ করে, তখন তাদের পাশে দাঁড়ানো এবং জালিমদের হাত গুঁড়িয়ে দেওয়া প্রতিটি সামর্থ্যবান ইমানদারের ওপর আবশ্যক হয়ে পড়ে।
হে বিশ্বের মুসলিম উম্মাহ! আপনাদের ভাইদের ওপর যখন আগুন জ্বলছে, তখন নিশ্চুপ থাকার সুযোগ নেই। আমরা আহ্বান জানাই- আর্থিক, মানসিক এবং শারীরিক সকল শক্তি নিয়ে রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ান। কুফফার বিশ্বের তৈরি করা সীমানা ও ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে আরাকানের মাজলুমদের রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হোন।
আরাকানের মাযলুম ভাইদের উদ্দেশ্যে আমরা বলবো, তথাকথিত মানবতার ফেরিওয়ালাদের কাছে সাহায্যের আবেদন না করে আপনারা সকলেই প্রতিরোধের গ্রহণ করুন, এক্ষেত্রে জামা’আতুল মুজাহিদীন অবশ্যই আপনাদের পাশে থাকবে ইনশা আল্লাহ।
মিয়ানমারের রক্তপিপাসু জান্তা সরকারকে মনে করিয়ে দিতে চাই, মুসলিম উম্মাহর ধৈর্যকে দুর্বলতা ভাববেন না। ইনশাআল্লাহ, আপনাদের প্রতিটি জুলুমের হিসাব কড়ায়-গণ্ডায় নেওয়া হবে এবং কোন একদিন আরাকানের আকাশে তাওহীদের পতাকা উড্ডীন হবে ইনশাআল্লাহ।
০৩. ট্রাম্প কর্তৃক জেরুজালেমকে ইজরাইলের রাজধানী ঘোষণায় জামা’আতুল মুজাহিদীন এর বিবৃতি
তারিখ: ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৭ ঈসায়ী । ২৭ রবিউল আউয়াল, ১৪৩৯ হিজরী
বিবৃতি নং- জিম.মিম_১৪৩৯_০০২
যাবতীয় প্রশংসা সেই মহান রব্বুল আলামিনের জন্য যিনি এক ও অদ্বিতীয়, যার কোনো শরিক নেই।
দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সেই মহান মানবের প্রতি যিনি আমাদেরকে প্রকৃত মুক্তির পথ দেখিয়ে গিয়েছেন।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ’লা তার পবিত্র কিতাবে বলেন,
“পবিত্র ও মহীয়ান তিনি যিনি তাঁর বান্দাহকে রাতের বেলা ভ্রমণ করিয়েছেন মাসজিদুল হারাম থেকে মাসজিদুল আকসা পর্যন্ত, যার চারপাশকে আমি কল্যাণময় করেছি। তাকে আমার নিদর্শনাবলী দেখানোর জন্য, তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।” [সূরা ইসরা:০১]
মার্কিন প্রশাসন ও ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক পবিত্র আল-কুদসকে (জেরুজালেম) দখলদার জায়নবাদী শক্তির রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার যে ধৃষ্টতাপূর্ণ ঘোষণা এসেছে, আমরা তার তীব্র নিন্দা ও ঘৃণা জানাচ্ছি। এই ঘোষণা কেবল ফিলিস্তিনিদের অধিকার হরণ নয়, বরং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর হৃদয়ে আঘাত। জেরুজালেম আমাদের চিরন্তন রাজধানী: মার্কিন কোনো ঘোষণা বা দখলদারদের কোনো আস্ফালন আল-কুদসের ইতিহাস ও পরিচয় বদলে দিতে পারবে না। আল-কুদস ফিলিস্তিনের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং এটি মুসলিম উম্মাহর লালিত স্বপ্ন ও বিশ্বাসের প্রতীক। এই ঘোষণার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কোনোদিন মধ্যস্থতাকারী ছিল না। তারা সবসময়ই দখলদার ইসরায়েলের দোসর হিসেবে কাজ করেছে। আমরা তথাকথিত ‘শান্তি প্রক্রিয়া’র কফিনে শেষ পেরেক মারা হলো বলে মনে করছি। আমরা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করছি যে, টেবিলের আলোচনায় নয় বরং ময়দানের যু্দ্ধ ও প্রতিরোধের মাধ্যমেই আল-কুদসকে মুক্ত করা হবে। আমরা ফিলিস্তিনি জনগণ এবং বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে থাকা মুসলিম উম্মাহকে এক নতুন প্রতিরোধের ডাক দিচ্ছি, যা বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে অবস্থিত মার্কিন সার্থের বিরুদ্ধে আঘাত হানার আহ্বান। আমরা বিশ্বের মুসলিম দেশগুলোর সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানাই, আপনারা এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে গর্জে উঠুন, মার্কিন পণ্য বর্জন করুন। আমরা বিশ্বাস করি, জুলুমের রাত যত গভীর হয়, মুক্তির প্রভাত ততই নিকটবর্তী হয়। জিহাদের মাধ্যমে ইনশাআল্লাহ খুব শীঘ্রই মাসজিদুল আকসার মিনারে বিজয়ের পতাকা উড়বে।
০৪. তেহরিকে তালিবান পাকিস্তান (TTP) এর আমীর মোল্লা ফজলুল্লাহ খোরাসানী (রহিমাহুল্লাহ) এর শাহাদাত প্রসঙ্গে বিবৃতি
তারিখ: ০৫ আগস্ট, ২০১৮ ঈসায়ী । ২৩ জিলক্বদ, ১৪৩৯ হিজরী
বিবৃতি নং- জিম.মিম_১৪৩৯_০০৩
যাবতীয় প্রশংসা সেই মহান রব্বুল আলামিনের জন্য যিনি এক ও অদ্বিতীয়, যার কোনো শরিক নেই।
দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সেই মহান মানবের প্রতি যিনি আমাদেরকে প্রকৃত মুক্তির পথ দেখিয়ে গিয়েছেন।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ’লা বলেন,
“মুমিনদের মধ্যে এমন কিছু লোক আছে যারা আল্লাহর সাথে কৃত ওয়াদা পূর্ণ করেছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ শাহাদাত বরণ করেছে এবং কেউ কেউ প্রতীক্ষায় রয়েছে…” [সূরা আহযাব: ২৩]
আমরা অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে অথচ ঈমানি দৃপ্ততায় আমাদের পাকিস্তানি মুজাহিদ ভাইদের আমীর, শরিয়তের একনিষ্ঠ খাদেম এবং বাতিলের আতঙ্ক মোল্লা ফজলুল্লাহ খোরাসানী (রহ.)-এর শাহাদাতের সংবাদ গ্রহণ করেছি। মার্কিন ক্রুসেডারদের ড্রোন হামলায় তার এই মহিমান্বিত মৃত্যু আমাদের শোকাতুর করলেও আমাদের ঈমানি সংকল্পকে আরও সুদৃঢ় করেছে। শাহাদাতের কাফেলায় নতুন নক্ষত্র ছিলেন আমীর ফজলুল্লাহ (রহ.)। তার শাহাদাত কেবল টিটিপি-র ক্ষতি নয়, বরং এটি পুরো অঞ্চলের জিহাদি আন্দোলনের এক অপূরণীয় ক্ষতি। তিনি আমীর বায়তুল্লাহ মেহসুদ ও হাকীমুল্লাহ মেহসুদ (রহ.)-এর উত্তরসূরি হিসেবে যেভাবে কুফরি শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়েছেন, তা ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। হোয়াইট হাউসের খুনিরা এবং তাদের আঞ্চলিক গোলামরা (পাক মুরতাদ বাহিনী) যদি মনে করে একজন আমীরকে হত্যা করে এই অঞ্চলের জিহাদি জোয়ার থামিয়ে দেবে, তবে তারা মূর্খের স্বর্গে বাস করছে। মুজাহিদদের রক্ত বৃথা যায় না; বরং এই রক্ত থেকেই হাজারো ফিদাঈ জানবাজ তৈরি হয়। টিটিপি ভাইদের প্রতি সমবেদনা: আমরা তেহরিকে তালিবান পাকিস্তানের ভাইদের বলতে চাই- আমরা আপনাদের এই শোকে অংশীদার। আপনাদের আমীর আমাদেরও ভাই। আমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এই অঞ্চলের তাগুতী শক্তি ও তাদের বিদেশি প্রভুদের উৎখাত করার লড়াইয়ে আপনাদের পাশে আছি। এই শাহাদাত আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, হকের পথে চলা মানুষের শেষ ঠিকানা জান্নাতুল ফেরদাউস। হে মুজাহিদ ভাইরা! শরিয়ত কায়েমের যে স্বপ্ন নিয়ে আমীর ফজলুল্লাহ জীবন দিয়েছেন, সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে যুদ্ধের ময়দানে আরও কঠোর আঘাত হানুন যেন মুরতাদ বাহিনীর অন্তরে ভীতি সঞ্চার হয়।
হে আল্লাহ! আপনি আমীর ফজলুল্লাহ খোরাসানী (রহ.)-এর শাহাদাত কবুল করুন। তাকে জান্নাতের উচ্চ মাকাম দান করুন এবং এই অঞ্চলের মুজাহিদদের বিজয় দান করুন। আমীন।
০৫. শাইখুল মুজাহিদীন জালালুদ্দিন হাক্কানি (রহ.)-এর ইন্তেকালে জামা’আতুল মুজাহিদীন এর পক্ষ থেকে শোক বার্তা
তারিখ: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ঈসায়ী । ১৫ মুহররম, ১৪৪০ হিজরী
বিবৃতি নং- জিম.মিম_১৪৪০_০০১
যাবতীয় প্রশংসা সেই মহান রব্বুল আলামিনের জন্য যিনি এক ও অদ্বিতীয়, যার কোনো শরিক নেই।
দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সেই মহান মানবের প্রতি যাকে নিজের জীবনের চাইতেও বেশি ভালো না বাসলে আমরা পরিপূর্ণ মুমিন হতে পারবো।
অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে আমরা বিশ্ব মুসলিম উম্মাহ এবং বিশেষ করে আফগানিস্তানের ইসলামি ইমারতের মুজাহিদ ভাইদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। আধুনিক যুগের জিহাদের অন্যতম সিপাহসালার, সোভিয়েত ও মার্কিন ক্রুসেডারদের আতঙ্ক, হাক্কানি নেটওয়ার্কের প্রতিষ্ঠাতা শাইখুল মুজাহিদীন মাওলানা জালালুদ্দিন হাক্কানি (রহ.) দীর্ঘ রোগভোগের পর ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
এক কিংবদন্তি মুজাহিদের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা যিনি জিহাদের বাতিঘর। শাইখ জালালুদ্দিন হাক্কানি (রহ.) কেবল একজন নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন এই উম্মাহর জন্য এক জীবন্ত ইতিহাস। আশির দশকে সোভিয়েত ইউনিয়নকে পরাজিত করা থেকে শুরু করে আমেরিকার আধুনিক সাম্রাজ্যবাদ রুখে দেওয়া পর্যন্ত- প্রতিটি ময়দানে তার পদচারণা ছিল ঈর্ষণীয়। তিনি তার সন্তানদের দ্বীনের পথে কোরবানি দিয়েছেন, কিন্তু বাতিলের কাছে কখনো মাথানত করেননি। তার জীবন ছিল কিতাব এবং জিহাদের এক অনন্য সমন্বয়। তিনি আমাদের শিখিয়ে গেছেন কীভাবে পাহাড়ের গুহায় থেকেও বিশ্বশক্তির অহংকার ধূলিসাৎ করে দিতে হয়। ভারতীয় উপমহাদেশের প্রতিটি কোণায় থাকা মুজাহিদদের জন্য তিনি ছিলেন পরম শ্রদ্ধার পাত্র। তার কৌশল ও সাহসিকতা আমাদের এই অঞ্চলের লড়াইয়ে সবসময় দিকনির্দেশনা দিয়েছে। তার চলে যাওয়া এক বিশাল শূন্যতা তৈরি করলেও তার রেখে যাওয়া আদর্শ আমাদের পথ দেখাবে। আমরা আমীরুল মুমিনীন এবং হাক্কানি পরিবারের (বিশেষ করে সিরাজুদ্দিন হাক্কানি হাফিজাহুল্লাহ) প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। আপনাদের এই শোক আমাদের সবার শোক। আমরা অঙ্গীকার করছি যে, শাইখ যে মিশন শুরু করেছিলেন, তা বিজয়ের বন্দরে না পৌঁছানো পর্যন্ত আমরা ময়দান ছাড়ব না ইনশাআল্লাহ।
হে আল্লাহ! আপনি আপনার এই মহান বান্দাকে জান্নাতুল ফেরদাউসের সর্বোচ্চ মাকাম দান করুন। তাকে আম্বিয়া ও শহীদদের সাথে হাশর করার তৌফিক দিন। আমীন।
০৬. জামা’আতুল মুজাহিদীন এর শীর্ষ পর্যায়ের জিম্মাদার শাইখ খোরশেদ আলম (মাস্টার) রহিমাহুল্লাহ কে ত্বাগুত বাহীনি কর্তৃক ক্রসফায়ার প্রসঙ্গে বিবৃতি
তারিখ: ১১ নভেম্বর, ২০১৮ ঈসায়ী । ০৩ বরিউল আউয়াল, ১৪৪০ হিজরী
বিবৃতি নং- জিম.মিম_১৪৪০_০০২
যাবতীয় প্রশংসা সেই মহান রব্বুল আলামিনের জন্য যিনি এক ও অদ্বিতীয়, যার কোনো শরিক নেই।
দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সেই মহান মানবের প্রতি যিনি আমাদেরকে প্রকৃত মুক্তির পথ দেখিয়ে গিয়েছেন।
কুরআনুল কারিমে আল্লাহ তা’আলা বলেন,
“আর যারা আল্লাহর পথে নিহত হয় তাদের মৃত বলো না, বরং তারা জীবিত; কিন্তু তোমরা তা অনুভব করতে পারো না।” (সূরা বাক্বরা: ১৫৪)
অত্যন্ত ভারী হৃদয় কিন্তু গর্বিত চিত্তে আমরা ঘোষণা করছি যে, জামা’আতুল মুজাহিদীন এর সম্মানিত জিম্মাদার, দ্বীনের নির্ভীক সৈনিক শাইখ খোরশেদ আলম গত ৫ নভেম্বর রোজ সোমবার বাতিলের বুলেটে বিদ্ধ হয়ে শাহাদাতের অমীয় সুধা পান করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রজিউন।
রাষ্ট্রীয় পেটুয়া বাহিনী ও খুনি পুলিশ প্রশাসন কাপুরুষের মতো রাতের অন্ধকারে তথাকথিত ‘বন্দুকযুদ্ধের’ নাটক সাজিয়ে শহীদ করেছে আমাদেরকে ভাইকে। আমরা এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং স্পষ্ট ঘোষণা করছি যে- আমাদের ভাইয়ের হত্যার ভয়াবহ পরিশোধ গ্রহণ করা হবে ইনশাআল্লাহ। ময়দানের আদর্শিক লড়াইয়ে পরাজিত হয়ে রাষ্ট্র আজ রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে ভাড়াটে খুনি হিসেবে ব্যবহার করছে। আমাদের ভাইকে নিরীহ অবস্থায় ফেলে হত্যা করা প্রমাণ করে যে, এই জালিম সরকার সত্যের আওয়াজকে কতটা ভয় পায়। তোমরা একজন খোরশেদ আলম কে হত্যা করেছো, কিন্তু তার রক্ত থেকে হাজারো মুজাহিদ জন্ম নেবে ইনশাআল্লাহ। ইসলামের ইতিহাসে ফাঁসির দড়ি বা পুলিশের বুলেট কোনোদিন হকের পথকে রুদ্ধ করতে পারেনি, পারবেও না। আমরা স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ার করে দিচ্ছি, যারা এই হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে এবং যারা ট্রিগার চেপেছে- তোমাদের প্রতিটি জুলুমের হিসাব কড়ায়-গণ্ডায় নেওয়া হবে। বাতিলের প্রাসাদে কম্পন ধরিয়ে দেওয়ার জন্য আমাদের ভাইয়ের শাহাদাতই যথেষ্ট। জামাআতুল মুজাহিদীন পরিবারের সকল সদস্যদের প্রতি আহ্বান, আমাদের প্রিয় ভাইয়ের বিদায়ে ভেঙে পড়বেন না। তিনি যা চেয়েছেন অর্থাৎ আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন কায়েম- সেই লক্ষ্য পানে আরও একনিষ্ঠভাবে এগিয়ে যান। শহীদদের রক্তই আমাদের বিজয়ের সিঁড়ি। আল্লাহ আমাদের ভাইদের শহীদ হিসেবে গ্রহণ করছেন, এটাই বিজয়ের পূর্ব লক্ষণ।
হে আমাদের রব! আপনি আমাদের ভাইয়ের শাহাদাত কবুল করুন এবং তাকে জান্নাতুল ফেরদাউসের উচ্চ মাকাম দান করুন। জালেমদের পতন ত্বরান্বিত করুন। আমিন
০৭. নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে বর্বরোচিত হামলায় তীব্র নিন্দা ও শহীদদের স্মরণে বিশেষ বিবৃতি
তারিখ: ২২ মার্চ, ২০১৯ ঈসায়ী । ১৫ রজব, ১৪৪০ হিজরী
বিবৃতি নং- জিম.মিম_১৪৪০_০০৩
যাবতীয় প্রশংসা সেই মহান রব্বুল আলামিনের জন্য যিনি এক ও অদ্বিতীয়, যার কোনো শরিক নেই।
দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সেই মহান মানবের প্রতি যিনি আমাদেরকে প্রকৃত মুক্তির পথ দেখিয়ে গিয়েছেন।
নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে জুমার সলাতরত নিরস্ত্র ও নিরপরাধ মুসলিমদের ওপর উগ্রবাদী শ্বেতাঙ্গ সন্ত্রাসীর বর্বরোচিত ও পৈশাচিক হামলায় আমরা স্তব্ধ ও গভীরভাবে মর্মাহত। আল্লাহর ঘর মসজিদে সিজদাবনত অবস্থায় আমাদের ভাইদের রক্ত ঝরানোর এই ঘটনা বিশ্বজুড়ে চলমান ইসলামবিদ্বেষ ও মুসলিম নিধনের এক নগ্ন বহিঃপ্রকাশ। শান্তিকামী ইবাদতকারীদের ওপর সরাসরি সম্প্রচার করে গুলি চালানো কেবল কোনো ব্যক্তির কাজ নয়, এটি মুসলিম উম্মাহর বিরুদ্ধে পশ্চিমা উগ্রবাদীদের দীর্ঘদিনের লালিত ঘৃণার ফসল। এই রক্তস্নাত জুমআ ইতিহাস কোনোদিন ভুলবে না। যখন কোনো মুসলিম আক্রান্ত হয়, তখন একে ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ বা ‘মানসিক ভারসাম্যহীনতা’ বলে ধামাচাপা দেওয়া হয়। কিন্তু আমরা একে স্রেফ হামলা নয়, বরং ইসলাম ও মুসলিমদের অস্তিত্বের বিরুদ্ধে এক সুপরিকল্পিত যুদ্ধ হিসেবে দেখি। আমরা বিশ্বাস করি, যারা আল্লাহর ঘরে ইবাদত অবস্থায় শাহাদাত বরণ করেছেন, তারা জান্নাতুল ফেরদাউসের সুউচ্চ মাকাম লাভ করবেন। মহান আল্লাহ তাদের পরিবারকে এই কঠিন শোকে ধৈর্য দান করুন। বিশেষ করে সেই সাহসী ভাইদের প্রতি আমাদের স্যালুট, যারা বুক পেতে দিয়ে অন্যদের জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন।
হে বিশ্বের মুসলিম উম্মাহ! এই ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, পৃথিবীর কোথাও আজ মুসলিমদের জান-মাল ও ইজ্জত নিরাপদ নয়। আমাদের আজ সময়ের দাবি- ঈমানি ভ্রাতৃত্বের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হওয়া। আত্মরক্ষা ও সম্মানের সাথে বেঁচে থাকার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা ছাড়া বিকল্প নেই। পশ্চিমা বিশ্বের কাছে মুসলিমরা কতটা ঘৃণার পাত্র সেটা বোঝার জন্য আশা করি আর অন্য কোনো মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী হওয়ার প্রয়োজন নেই। তাই তারা যেই ঐতিহাসিক ক্রুসেড (অঘোষিতভাবে) শুরু করেছে আমাদের বিরুদ্ধে, আমাদেরও উচিত মধ্যপ্রাচ্য ও আফগান সহ প্রত্যেকটি ময়দানে আমেরিকা ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে আরোও কঠোর হওয়া ইনশা আল্লাহ।
আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, রক্তের বদলে রক্ত এবং ধ্বংসের বদলে ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত এই লড়াই থামবে না। নিউজিল্যান্ডের এই শহীদদের পবিত্র রক্ত ইনশাআল্লাহ বৃথা যাবে না। ইউরোপ অপেক্ষা করুক তার নিজের ঘড়ে ধ্বংসের সূচনা হওয়ার।
০৮. কায়েদাতুল জিহাদ ইসলামিক মাগরিব শাখার আমির কমান্ডার আব্দুল মালিক দ্রুকদেল (রহ:) এর শাহাদাতে বিবৃতি
তারিখ: ১৬ জুলাই, ২০২০ ঈসায়ী । ২৫ জিলক্বদ, ১৪৪১ হিজরী
বিবৃতি নং- জিম.মিম_১৪৪১_০০১
যাবতীয় প্রশংসা সেই মহান সত্তার, যিনি ‘আর-রাজ্জাক’; পৃথিবীর প্রতিটি অণু-পরমাণুতে যার দয়ার দস্তরখান বিছানো এবং যার অবারিত রিজিক ছাড়া কোনো প্রাণের অস্তিত্ব কল্পনা করা অসম্ভব।
দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সেই মহান পথপ্রদর্শকের প্রতি, যিনি মানবতার চরম দুর্দিনে হিদায়াতের আলোকবর্তিকা নিয়ে আবির্ভূত হয়েছিলেন এবং আমাদের অন্ধকার থেকে আলোর পথে পরিচালিত করেছেন।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ’লা কুরআনুল কারিমে বলেন,
“আর যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়, তাদেরকে মৃত বলো না; বরং তারা জীবিত, কিন্তু তোমরা তা বোঝো না।” [সূরা বাক্বরা:১৫৪]
অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে আমরা উত্তর আফ্রিকার (ইসলামিক মাগরিব) আমাদের মুজাহিদ ভাইদের আমীর, ক্রুসেডার ফ্রান্সের আতঙ্ক, শরিয়তের একনিষ্ঠ খাদেম শাইখ আব্দুল মালেক দ্রুকদেল (রহ.)-এর শাহাদাতের সংবাদ গ্রহণ করেছি। মালির পবিত্র ভূমিতে আধুনিক যুগের নব্য উপনিবেশবাদী ফরাসি বাহিনীর হামলায় তিনি শাহাদাতের উচ্চ মাকাম লাভ করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রজিউন।
শাইখ আব্দুল মালেক দ্রুকদেল (রহ.) ছিলেন বর্তমান জিহাদি আন্দোলনের একজন পথপ্রদর্শক। আলজেরিয়ার পাহাড় থেকে মালির মরুভূমি পর্যন্ত তিনি যেভাবে ফরাসি ক্রুসেডার ও তাদের পুতুল সরকারগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন, তা ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। যদিও আমরা ভৌগোলিকভাবে বিচ্ছিন্ন, কিন্তু ঈমানি ও আদর্শিক বন্ধনে আমরা এক অবিচ্ছেদ্য উম্মাহ। মাগরিবের জমিনে ঝরা এই রক্ত কেবল আফ্রিকার নয়, বরং ভারতীয় উপমহাদেশসহ সারা বিশ্বের মুজাহিদদের হৃদয়ে প্রতিশোধের আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে। ফ্রান্স ও তার মিত্ররা যদি মনে করে একজন অভিজ্ঞ আমীরকে হত্যা করে তারা আফ্রিকার সম্পদ লুণ্ঠন ও মুসলিম নিধন চালিয়ে যাবে, তবে তারা ভুলের স্বর্গে বাস করছে। শাইখের শাহাদাত মাগরিবের যুবকদের মাঝে জিহাদের নতুন জোয়ার তৈরি করবে, যা ইনশাআল্লাহ ফ্রান্সকে আফ্রিকা থেকে অপমানের সাথে বিতাড়িত করবে।
হে মাগরিবের বীর মুজাহিদিন! আপনাদের আমীরের শাহাদাতে আমরা সমানভাবে শোকাতুর। কিন্তু মনে রাখবেন, শাহাদাত আমাদের পরাজয় নয়, বরং চূড়ান্ত বিজয়। আপনাদের ধৈর্য ও অবিচলতা আমাদের অনুপ্রেরণা দেয়। আমরা আপনাদের এই লড়াইয়ে আধ্যাত্মিক ও আদর্শিকভাবে পাশে আছি।
হে আল্লাহ! আপনি শাইখ আব্দুল মালেক (রহ.)-কে জান্নাতুল ফেরদাউসের উচ্চ মাকাম দান করুন। তাকে আম্বিয়া, সিদ্দিকীন ও শহীদদের সাথী করুন এবং আমাদের এই বৈশ্বিক জিহাদকে বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিন। আমীন।
০৯. বাবরি মসজিদের জমি জবরদখল ও হিন্দুত্ববাদী আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে বিশেষ বিবৃতি
তারিখ: ২৮ নভেম্বর, ২০১৯ ঈসায়ী । ০১ রবিউস সানি, ১৪৪১ হিজরী
বিবৃতি নং- জিম.মিম১৪৪১০০২
যাবতীয় প্রশংসা সেই মহান সত্তার, যিনি ‘আর-রাজ্জাক’; পৃথিবীর প্রতিটি অণু-পরমাণুতে যার দয়ার দস্তরখান বিছানো এবং যার অবারিত রিজিক ছাড়া কোনো প্রাণের অস্তিত্ব কল্পনা করা অসম্ভব।
দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সেই মহান পথপ্রদর্শকের প্রতি, যিনি মানবতার চরম দুর্দিনে হিদায়াতের আলোকবর্তিকা নিয়ে আবির্ভূত হয়েছিলেন এবং আমাদের অন্ধকার থেকে আলোর পথে পরিচালিত করেছেন।
মহান আল্লাহ রব্বুল আলামিন তার পবিত্র কিতাবে বলেন,
“আর তাদের চেয়ে বড় জালেম আর কে আছে, যে আল্লাহর মসজিদসমূহে তাঁর নাম স্মরণ করতে বাধা দেয় এবং সেগুলো ধ্বংস করার চেষ্টা করে?” [সূরা বাক্বরা:১১৪]
ভারতের সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বাবরি মসজিদ মামলার যে রায় ঘোষণা করা হয়েছে, তা কোনো বিচার নয়; বরং এটি মুসলিম উম্মাহর ওপর হিন্দুত্ববাদী শক্তির এক নগ্ন আগ্রাসন। পাঁচশ বছরের পুরনো একটি মসজিদকে ভেঙে সেখানে রামমন্দির নির্মাণের অনুমতি দিয়ে ভারতীয় আদালত প্রমাণ করেছে যে, সে দেশে মুসলিমদের জান-মাল ও ইজ্জতের মতো তাদের উপাসনালয়েরও কোনো নিরাপত্তা নেই। কোনো আদালতের রায়ে মসজিদের ভূমি মন্দিরে পরিণত হতে পারে না। ইসলামের বিধান অনুযায়ী, একবার যেখানে মসজিদ কায়েম হয়, কিয়ামত পর্যন্ত তা আল্লাহর মালিকানাধীন ভূমি হিসেবেই গণ্য হয়। বাবরি মসজিদের প্রতিটি ধূলিকণা আজও মুসলিমদের আমানত। তথাকথিত ভারতীয় ধর্মনিরপেক্ষতা ও গণতন্ত্রের প্রকৃত স্বরূপ উন্মোচন হলো। আদালত আজ ইনসাফের বদলে সংখ্যাগুরুদের তুষ্টি ও আরএসএস-বিজেপির রাজনৈতিক এজেন্ডাকে প্রাধান্য দিয়েছে। এই রায় প্রমাণ করে যে, ভারতে মুসলিমদের জন্য আইনি লড়াইয়ের পথ রুদ্ধ, ভারতের ভূমি তাদের জন্য দিন দিন সংকীর্ণ করা হবে। ১৯৯২ সালে যারা হাতুড়ি নিয়ে আল্লাহর ঘর শহীদ করেছিল, আজ রাষ্ট্রীয় কলম দিয়ে সেই একই কাজ সম্পন্ন করা হলো। এই অবিচার কেবল ভারতের মুসলিমদের নয়, বরং বিশ্বের দুইশ কোটি মুসলিমের হৃদয়ে আঘাত।
হে ভারতের এবং উপমহাদেশের মুসলিম ভাই ও বোনেরা! কেবল চোখের পানি ফেলে এই সমস্যার সমাধান হবে না। বাবরির কান্না আজ আমাদের ঈমানি মর্যাদাবোধকে জাগ্রত করার ডাক দিচ্ছে। আজ সময় এসেছে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার এবং নিজেদের অধিকার ও দ্বীন রক্ষার জন্য প্রস্তুত হওয়ার। যতই সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে আমরা ততই রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সেই ভবিষ্যৎ বাণীর দিকে এগিয়ে যাচ্ছি যা আমাদেরকে ইঙ্গিত দেয় হিন্দুস্তানে তাওহীদ ও শিরকের এক ভয়াবহ যুদ্ধের। তাই রাজনৈতিক সমাধানের জন্য সময় নষ্ট না করে সেই চূড়ান্ত সময়ের প্রস্তুতি গ্রহণ করুন যা ইমান ও কুফরের ফয়সালা কারী দ্বন্দ্ব হবে।
আমরা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করছি যে, জুলুমের রাজত্ব চিরস্থায়ী নয়। মুশরিক জোটকে অবশ্যই মুজাহিদীনের মোকাবিলা করতে হবে। সোমনাথ থেকে বাবরি- প্রতিটি ইঞ্চি ভূমির হিসাব নেওয়া হবে। ইনশাআল্লাহ, হকের বিজয় সুনিশ্চিত এবং বাতিলের পরাজয় অনিবার্য।
১০. রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর শানে ফরাসি প্রেসিডেন্টের ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্যের প্রতিবাদে বিশেষ বিবৃতি
তারিখ: ০৯ নভেম্বর, ২০২০ ঈসায়ী । ২৩ রবিউল আউয়াল, ১৪৪২ হিজরী
বিবৃতি নং- জিম.মিম_১৪৪২_০০১
সকল প্রশংসা সেই পরম করুণাময় আল্লাহর জন্য, যিনি ‘আল-গফুর’; বান্দার পাহাড়সম গুনাহকে যিনি এক পলকে ক্ষমা করে দেন এবং যার রহমত তার ক্রোধের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করে আছে।
শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক দয়ার নবী মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর ওপর, যাকে মহান আল্লাহ ‘রহমাতুল্লিল আলামিন’ বা বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরণ করেছেন।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ’লা বলেন,
“নিশ্চয়ই যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে কষ্ট দেয়, আল্লাহ তাদের প্রতি দুনিয়া ও আখেরাতে লানত করেন এবং তাদের জন্য প্রস্তুত রেখেছেন লাঞ্ছনাকর আজাব।” [সূরা আহযাব: ৫৭]
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ কর্তৃক রাষ্ট্রীয়ভাবে আমাদের প্রিয় নবী, মানবতার মুক্তিদূত মুহাম্মদ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর শানে চরম অবমাননাকর ও ধৃষ্টতাপূর্ণ কার্টুন প্রদর্শন এবং ইসলামকে লক্ষ্য করে বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের আমরা তীব্র নিন্দা ও ঘৃণা জানাচ্ছি। এই ঘটনা কেবল বাক-স্বাধীনতার অপব্যবহার নয়, বরং এটি বিশ্বের দুইশ কোটি মুসলিমের হৃদয়ে সরাসরি কুঠারাঘাত এবং বিশ্ব শান্তির বিরুদ্ধে এক প্রকাশ্য উস্কানি।
একজন মুমিনের কাছে তার প্রাণের চেয়েও প্রিয় হলেন রাসূলে আরাবি (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। তাঁর সম্মান রক্ষায় আমরা আমাদের সর্বস্ব বিলিয়ে দিতে প্রস্তুত। ফ্রান্স যা করেছে, তা কোনো সভ্য রাষ্ট্র বা নেতার কাজ হতে পারে না; এটি তাদের দীর্ঘদিনের লালিত ইসলামবিদ্বেষ ও সাংস্কৃতিক সন্ত্রাসবাদের বহিঃপ্রকাশ। ধর্মের অবমাননা কোনোভাবেই বাক-স্বাধীনতা হতে পারে না। যখন মুসলিমদের অনুভূতিতে আঘাত করা হয়, তখন পশ্চিমা বিশ্ব একে ‘স্বাধীনতা’ বলে জাস্টিফাই করে, অথচ তাদের নিজেদের স্বার্থে আঘাত লাগলে তা হয়ে যায় দণ্ডনীয় অপরাধ। এই দ্বিচারিতা উম্মাহ আজ চিনে নিয়েছে। আমরা বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তের মুসলিমদের প্রতি আহ্বান জানাই- ফরাসি সকল পণ্য বর্জন করে তাদের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে দিন। বিশেষ করে ফ্রান্সে অবস্থানরত মুসলিমদের প্রতি আমাদের দাবি, এসকল শাতীমদের পাওনা মিটিয়ে দিন। তাদের পথকে সংকীর্ণ করে দিন।
হে মুসলিম যুবক! প্রিয় নবীর ইজ্জত রক্ষার লড়াইয়ে পিছিয়ে থাকার কোনো সুযোগ নেই। যে হাত আমাদের নবীর শানে বেয়াদবি করে, সেই হাতকে থামিয়ে দেওয়া আমাদের ঈমানি দায়িত্ব। ফ্রান্সকে এই ধৃষ্টতার জন্য চড়া মূল্য দিতে হবে।
ম্যাক্রোঁ ও তার সহযোগীরা জেনে রাখুক, সূর্যের দিকে থুতু ছিটালে তা নিজের গায়েই এসে পড়ে। ইসলামের আলো নেভানোর ক্ষমতা কোনো অপশক্তির নেই। ইনশাআল্লাহ, রাসূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সম্মান রক্ষার কাফেলা আরও বেগবান হবে।
১১. প্রহসন মূলক বিচারের মাধ্যমে আসাদুজ্জামান পনির (রহিমাহুল্লাহ) এর হত্যাকান্ডে জামাআতুল মুজাহিদীনের বিবৃতি
তারিখ: ২১ জুলাই, ২০২১ ঈসায়ী । ১১ জিলহজ্জ, ১৪৪২ হিজরী
বিবৃতি নং- জিম.মিম_১৪৪২_০০২
সকল প্রশংসা সেই পরম করুণাময় আল্লাহর জন্য, যিনি ‘আল-গাফুর’; বান্দার পাহাড়সম গুনাহকে যিনি এক পলকে ক্ষমা করে দেন এবং যার রহমত তার ক্রোধের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করে আছে।
শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক দয়ার নবী মুহাম্মদ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর, যাকে মহান আল্লাহ ‘রহমাতুল্লিল আলামিন’ বা বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরণ করেছেন।
আমরা আমাদের সংগঠনের একজম একনিষ্ঠ সদস্য এবং সত্যের নির্ভীক সৈনিক আসাদুজ্জামান পনির এর শাহাদাতের সংবাদ দেশবাসীকে জানাচ্ছি। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রজিউন।
গত ১৫ জুলাই, ২০২১ তারিখে তাকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার – ০৪ এ ফাঁসি দেওয়া হয়।
আমাদের ভাইকে অন্য কোনো অপরাধের জন্য নয়, বরং শুধুমাত্র দেশের প্রচলিত আইনের বিরুদ্ধে কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে জিহাদের পথ অবলম্বনের কথিত অপরাধে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলানো হয়েছে। এটি একটি আদর্শিক কণ্ঠরোধের বহিঃপ্রকাশ। আমরা বিশ্বাস করি, ফাঁসি দিয়ে সত্যের আওয়াজ দমানো যায় না। ইতিহাসের প্রতিটি যুগে যারা হকের দাওয়াত দিয়েছেন, তাদের ওপর জুলুম নেমে এসেছে। আজকের এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, সত্যের শক্তিকে শাসকগোষ্ঠী কতটা ভয় পায়। আমাদের একজন ভাইকে হত্যা করে এই জিহাদি আন্দোলন থামানো সম্ভব নয়। বরং তাঁর রক্ত আমাদের প্রতিটি ভাইকে জিহাদের পথে আরও দৃঢ়ভাবে কাজ করার প্রেরণা যোগাবে। আমরা মহান আল্লাহর দরবারে এই বিচারহীনতার বিচার দিচ্ছি। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বোত্তম বিচারক।
আমরা দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করছি যে, ফাঁসির দড়ি দিয়ে আমাদের পথকে স্তব্ধ করা যাবে না। ইনশাআল্লাহ, প্রতিটি ফোঁটা রক্ত থেকে হাজারো সত্যের সৈনিক জন্ম নেবে এবং অচিরেই আমাদের শহীদ ভাইদের হত্যার বদলা নেওয়া হবে ইনশাআল্লাহ।
১২. কাবুল বিজয়ে ইমারতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের প্রতি অভিনন্দন
তারিখ: ২২ আগস্ট, ২০২১ ঈসায়ী । ১৪ মুহররম, ১৪৪৩ হিজরী
বিবৃতি নং- জিম.মিম_১৪৪৩_০০১
যাবতীয় প্রশংসা সেই মহ পরাক্রমশালী আল্লাহর জন্য, যিনি ‘আল-আজিজ’; যিনি সত্যকে মিথ্যার ওপর বিজয়ী করেন এবং যাঁর অসীম কুদরতেই নিরস্ত্র মুমিনেরা সুসজ্জিত বাহিনীর ওপর বিজয় লাভ করে। প্রশংসা সেই সত্তার, যাঁর সাহায্য ও মদদ মুমিনের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।
দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সেই সিপাহসালার ও বীর সেনানী মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি, যিনি বদর থেকে খন্দক পর্যন্ত প্রতিটি পদক্ষেপে আল্লাহর ওপর অটল আস্থা রেখে বাতিলের দর্প চূর্ণ করেছেন এবং উম্মাহকে বিজয়ের প্রকৃত পন্থা শিখিয়েছেন।
আফগানিস্তানের মাটিতে দীর্ঘ দুই দশকের লড়াই শেষে বিদেশী দখলদারিত্বের অবসান এবং ইসলামী ইমারাত আফগানিস্তানের পুনঃপ্রতিষ্ঠায় আমরা আমাদের আফগান ভাইদের প্রতি আন্তরিক মোবারকবাদ ও বিপ্লবী সালাম পেশ করছি।
এই বিজয় কেবল একটি ভৌগোলিক বিজয় নয়, বরং এটি বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে নিপীড়িত এবং শরীয়ার জন্য লড়াইরত মানুষের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা। আমরা বিশ্বাস করি, আফগান জনগণের এই অবিস্মরণীয় সাফল্য প্রমাণ করেছে যে, অদম্য ঈমানি শক্তি এবং ঐক্য থাকলে যেকোনো আধুনিক সাম্রাজ্যবাদকে পরাজিত করা সম্ভব। বিদেশী শক্তির বিদায় এবং ইসলামী আদর্শ অনুযায়ী রাষ্ট্র গঠনের যে সুযোগ আফগান জনগণ লাভ করেছে, তা এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। এই বিজয় স্মরণ করিয়ে দেয় যে, তাওহীদের পথে আত্মত্যাগ কখনো বৃথা যায় না। প্রতিকূলতা যত বড়ই হোক, ধৈর্য ও সংগ্রামের মাধ্যমে বিজয় সুনিশ্চিত। আমরা আশা করি, এই পরিবর্তন দক্ষিণ এশিয়াসহ সমগ্র মুসলিম উম্মাহর মধ্যে একটি নতুন জাগরণ সৃষ্টি করবে এবং দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সংকটগুলোতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
আমরা ইসলামী ইমারাত আফগানিস্তানের উত্তরোত্তর সাফল্য, শান্তি এবং সমৃদ্ধি কামনা করছি। মহান আল্লাহ এই বিজয়কে মজলুম মানবতার মুক্তির উসিলা হিসেবে কবুল করুন। আমিন
১৩. বরকতময় তুফানুল আকসা উপলক্ষে শুভেচ্ছা বার্তা
তারিখ: ১১ অক্টোবর, ২০২৩ ঈসায়ী । ২৬ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৫ হিজরী
বিবৃতি নং- জিম.মিম_১৪৪৫_০০১
সকল গুণগান সেই মহান রবের, যিনি মুমিনদের ধৈর্য ও অবিচলতার বিনিময়ে বিজয় দান করেন। যিনি ‘আন-নাসির’ বা সর্বোত্তম সাহায্যকারী; যাঁর ফয়সালা আসার পর পৃথিবীর কোনো শক্তিই মুমিনের অগ্রযাত্রা রুখে দিতে পারে না।
শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক সেই মহান রাসুলের ওপর, যিনি শত জুলুম ও নির্যাতনের মুখেও সত্যের ঝাণ্ডা ঊর্ধ্বে তুলে ধরেছিলেন এবং যাঁর হাত ধরেই পবিত্র মক্কা বিজিত হয়ে ইসলামের বিজয় কেতন উড্ডীন হয়েছিল।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ’লা বলেন,
“পবিত্র সেই সত্তা, যিনি তাঁর বান্দাকে রাতে মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসা পর্যন্ত ভ্রমণ করিয়েছেন, যার চারপাশকে তিনি বরকতময় করেছেন।” [সূরা ইসরা: ০১]
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা থেকে শুরু হওয়া ঐতিহাসিক এবং সাহসী অভিযান ‘তুফানুল আকসা’-এর অভাবনীয় সাফল্যে আমরা ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ যোদ্ধা এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে অন্তরের অন্তস্তল থেকে মোবারকবাদ জানাচ্ছি। গত কয়েক দশক ধরে জায়নবাদী দখলদার বাহিনী ফিলিস্তিনিদের ওপর যে জুলুম, নিপীড়ন এবং আল-আকসা মসজিদের পবিত্রতা যেভাবে লুণ্ঠন করে আসছিল, এই অভিযান তার এক দাঁতভাঙা জবাব।
জামা’আতুল মুজাহিদীন এর পক্ষ থেকে আমরা স্পষ্ট করতে চাই যে, ফিলিস্তিন এবং আল-আকসা কেবল ফিলিস্তিনিদের সম্পদ নয়; এটি প্রতিটি মুসলিমের হৃদয়ের স্পন্দন। জায়নবাদী শক্তির হাত থেকে আমাদের প্রথম কিবলা উদ্ধার করার এই জিহাদে আমরাও অংশীদার। মুজাহিদদের এই দুঃসাহসী পদক্ষেপ প্রমাণ করেছে যে, অত্যাধুনিক প্রযুক্তির দেয়াল ঈমানি শক্তির কাছে কতটা ভঙ্গুর। ভারতীয় উপমহাদেশের জিহাদি আন্দোলনের অংশ হিসেবে আমরা অনুভব করি যে, ফিলিস্তিনিদের এই বিজয় আমাদের অঞ্চলের নির্যাতিত মানুষের মনেও এক নতুন আশার আলো সঞ্চার করেছে। আমরা বিশ্বাস করি, গাজার প্রতিরোধ যোদ্ধারা আজ যে পথ দেখিয়েছে, তা বিশ্বের প্রতিটি কোণায় ছড়িয়ে থাকা মজলুমদের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। আপনাদের রক্ত আমাদের ধমনীতেও লড়াইয়ের স্পৃহা জোগায়।আমরা মুসলিম বিশ্বের সাধারণ জনগণের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, কেবল মৌখিক নিন্দা নয়, বরং কার্যকরভাবে ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়ান। ক্ষুদ্র মতভেদ ভুলে আল-আকসা রক্ষার এই মহান লড়াইয়ে ঐক্যবদ্ধ হোন। দখলদারদের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে বয়কট করুন। আমরা আমাদের ফিলিস্তিনি ভাইদের আশ্বস্ত করতে চাই, আপনারা এই লড়াইয়ে একা নন। ভৌগোলিক দূরত্ব থাকলেও আমাদের দোয়া, আবেগ এবং পূর্ণ সমর্থন সবসময় আপনাদের সাথে আছে। আজ যে ‘তুফান’ গাজা থেকে শুরু হয়েছে, তা ইনশাআল্লাহ একদিন সমগ্র কুফরি ও জালিম শক্তির ভিত কাঁপিয়ে দিয়ে জেরুজালেমের আকাশে বিজয়ের পতাকা ওড়াবে।
১৪. ভারতে হিন্দুত্ববাদীদের হাতে মসজিদসমূহের শাহাদাত প্রসঙ্গে বিবৃতি
তারিখ: ০১ মার্চ, ২০২৪ ঈসায়ী । ২০ শাবান, ১৪৪৫ হিজরী
বিবৃতি নং- জিম.মিম_১৪৪৫_০০২
যাবতীয় প্রশংসা সেই মহিমান্বিত রবের, যিনি ‘আল-মালিক’ ও ‘আল-কুদ্দুস’। জমিনের প্রতিটি ধূলিকণা যাঁর অবাধ্য নয় এবং প্রতিটি সিজদাহর স্থান যাঁর কুদরতি পাহারায় বেষ্টিত। মানুষের গড়া দালান ভাঙা সহজ হলেও মুমিনের হৃদয়ে স্থাপিত আল্লাহর ঘরকে ধ্বংস করার সাধ্য কারো নেই। প্রশংসা সেই সত্তার, যিনি আবাবিল পাঠিয়ে কাবার শত্রু ধ্বংস করেছিলেন এবং আজও যিনি তাঁর দ্বীনের সর্বোত্তম হেফাজতকারী।
দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সেই প্রিয় নবীর (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রতি, যিনি মক্কায় কাফিরদের চরম নির্যাতনের মুখেও তাওহীদের ঝাণ্ডা ছাড়েননি। যিনি শিখিয়েছেন, মসজিদ কেবল ইট-পাথরের স্থাপনা নয়, বরং এটি সত্য ও ন্যায়ের অভেদ্য দুর্গ।
কুরআনুল কারিমে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ’লা বলেন,
“আর সেই ব্যক্তির চেয়ে বড় জালেম আর কে হতে পারে, যে আল্লাহর মাসজিদসমূহে তাঁর নাম স্মরণ করতে বাধা দেয় এবং সেগুলো ধ্বংস করার চেষ্টা করে?” [সূরা বাকারা: ১১৪]
ভারতবর্ষের মাটিতে ২০২৪ সালের শুরু থেকে তথাকথিত ‘উন্নয়ন’ ও ‘অবৈধ স্থাপনা’ উচ্ছেদের নামে একের পর এক ঐতিহাসিক মসজিদ, মাদ্রাসা এবং মুসলিমদের পবিত্র স্থানগুলোকে যেভাবে বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, তা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি একটি সুপরিকল্পিত এবং সুগভীর ষড়যন্ত্রের অংশ, যার মূল লক্ষ্য হলো ভারতবর্ষ থেকে ইসলামের নাম-নিশানা মুছে ফেলা।
আজ তথাকথিত ‘গণতন্ত্র’ ও ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’র আড়ালে ভারত সরকারের আসল হিন্দুত্ববাদী চেহারা পুরো বিশ্বের সামনে উন্মোচিত। দিল্লি থেকে শুরু করে হলদোয়ানি, মিরাট থেকে উত্তরপ্রদেশের প্রতিটি অলিগলিতে আজ মুসলিমদের রক্ত ঝরানো হচ্ছে এবং তাদের ইবাদতের স্থানগুলোকে অপবিত্র করা হচ্ছে। রাম মন্দিরের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে যে উন্মাদনা শুরু হয়েছিল, তা এখন মুসলিমদের ঘরবাড়ি ও মসজিদের ওপর বুলডোজার চালিয়ে উদযাপিত হচ্ছে। এই সরকার রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে একতরফাভাবে মুসলিমদের দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিকে পরিণত করার চূড়ান্ত ব্লুপ্রিন্ট বাস্তবায়ন করছে।
সাধারণ মুসলিমদের প্রতি আমাদের উদাত্ত আহ্বান:
আমরা বিশ্বাস করি, কেবল বিবৃতি বা নিন্দার সময় পার হয়ে গেছে। যখন শত্রুরা আপনাদের ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দিচ্ছে এবং ইবাদতের স্থানগুলোকে মাটির সাথে মিশিয়ে দিচ্ছে, তখন হাত গুটিয়ে বসে থাকা কোনো মুমিনের কাজ হতে পারে না। আমরা ভারতবর্ষের প্রতিটি মুসলিম ভাই ও বোনের প্রতি নিম্নোক্ত আহ্বান জানাচ্ছি:
জান ও মাল রক্ষার প্রস্তুতি: আল্লাহ প্রদত্ত অধিকার অনুযায়ী আপনার জান, মাল এবং ইজ্জত রক্ষার জন্য সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করুন। শত্রুর আঘাতের অপেক্ষায় না থেকে নিজেদের আত্মরক্ষার সামর্থ্য বৃদ্ধি করুন। মনে রাখবেন, কাপুরুষোচিত মৃত্যু নয়, বরং বীরের মতো প্রতিরোধই মুমিনের ভূষণ।
ভ্রাতৃত্ব ও ঐক্য: পাড়ায় পাড়ায়, মহল্লায় মহল্লায় শক্তিশালী সামাজিক ঐক্য গড়ে তুলুন। কোনো একটি পরিবার বা মসজিদ আক্রান্ত হলে যেন পুরো অঞ্চলের মুসলিমরা এক হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে, সেই সাংগঠনিক শক্তি অর্জন করুন।
ধর্মীয় পরিচয় রক্ষা: হিন্দুত্ববাদী আগ্রাসন কেবল আপনার ঘর ভাঙছে না, তারা আপনার ঈমান ও সংস্কৃতিকেও লক্ষ্যবস্তু করেছে। নিজেদের সন্তানদের দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিত করুন এবং ইসলামের আদর্শের ওপর অবিচল থাকুন।
প্রতিরোধই মুক্তির পথ: ইতিহাস সাক্ষী, কোনো জালিম শক্তি চিরস্থায়ী নয়। যখন জুলুম তার সীমা ছাড়িয়ে যায়, তখন থেকেই তার পতনের শুরু হয়। আপনাদের এই ধৈর্য এবং সাহসিকতা ইনশাআল্লাহ এই অশুভ শক্তির পতন ঘটাবে।
চূড়ান্ত বার্তা:
আমরা এই বার্তাকে কেবল একটি ঘোষণা হিসেবে নয়, বরং একটি সতর্কবাণী হিসেবে দিচ্ছি। যারা আল্লাহর ঘর নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে, তাদের জেনে রাখা উচিত, এই অন্যায় অবিচার বেশিদিন চলতে দেওয়া হবে না। জামা’আতুল মুজাহিদীন আপনাদের এই লড়াইয়ে পাশে আছে। মাজলুমের প্রতিটি ফোঁটা রক্ত এবং প্রতিটি ভাঙা ইটের হিসাব একদিন কড়ায়-গণ্ডায় নেওয়া হবে ইনশাআল্লাহ।
১৫. ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের আমির ইসমাইল হানিয়া (রহ.) এর শাহাদাত প্রসঙ্গে বিবৃতি
তারিখ: ৩১ জুলাই, ২০২৪ ঈসায়ী । ২৫ মুহররম, ১৪৪৬ হিজরী
বিবৃতি নং- জিম.মিম_১৪৪৬_০০১
সমস্ত প্রশংসা সেই মহান ‘আল-মুন্তাকিম’ এর জন্য যিনি শোকাতুর হৃদয়ে ধৈর্য ও প্রশান্তি নাজিল করেন। যিনি শাহাদাতের মাধ্যমে তাঁর প্রিয় বান্দাকে দুনিয়ার জিন্দানখানা থেকে মুক্ত করে জান্নাতুল ফিরদাউসের উচ্চ মকামে আসীন করেন। তিনি আমাদের অভিভাবক এবং তিনিই সর্বোত্তম ফয়সালাকারী।
দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সেই সিপাহসালার মুহাম্মদ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি, যিনি উহুদ ও খন্দকের ময়দানে সাহাবীদের শাহাদাতের তামান্না শিখিয়েছেন। যিনি নিজে ছিলেন বীরত্বের প্রতীক এবং যার আদর্শই বাতিলের সামনে মাথা নত না করার চিরন্তন শিক্ষা দেয়।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ’লা বলেন,
“আর যারা আল্লাহর রাস্তায় নিহত হয়, তাদেরকে মৃত বলো না। বরং তারা জীবিত, কিন্তু তোমরা তা বোঝো না।” [সূরা বাকারা: ১৫৪]
আমরা অবগত হয়েছি যে, ফিলিস্তিনি প্রতিরোধের অবিসংবাদিত নেতা, আল-আকসা মুক্তিকামী কাফেলার অগ্রপথিক এবং হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রধান শাইখ ইসমাইল হানিয়া (রাহিমাহুল্লাহ) তেহরানে এক কাপুরুষোচিত জায়নবাদী হামলায় শাহাদাতের অমিয় সুধা পান করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
শাইখ ইসমাইল হানিয়া কেবল একজন রাজনৈতিক নেতাই ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন ধৈর্যের এক মূর্ত প্রতীক। ইতিপূর্বে তিনি তাঁর পরিবারের বহু সদস্যকে এই পবিত্র লড়াইয়ে হারিয়েছেন। আজ তিনি নিজেও সেই কাফেলায় যোগ দিলেন, যারা আল্লাহর সন্তুষ্টির বিনিময়ে নিজেদের জান ও মাল সপে দিয়েছেন। তাঁর এই শাহাদাত প্রমাণ করে যে, প্রতিরোধের নেতারা ড্রয়িংরুমে বসে নয়, বরং যুদ্ধের ময়দানে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন।
সম্মুখ সমরে পরাজিত হয়ে ইসরায়েল আজ গুপ্তহত্যার পথ বেছে নিয়েছে। আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, ইসমাইল হানিয়াকে শহীদ করে এই প্রতিরোধের পথকে স্তব্ধ করা যাবে না। ইতিহাস সাক্ষী, প্রতিটি নেতার শাহাদাত প্রতিরোধের আগুনকে আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়। শাইখ আহমাদ ইয়াসিন থেকে শুরু করে আব্দুল আজিজ রানতিসি, কারো শাহাদাতই হামাসকে দুর্বল করতে পারেনি, বরং আরও শক্তিশালী করেছে।
সাধারণ মুসলিম ও যুবসমাজের প্রতি আহ্বান: শাইখ হানিয়ার রক্ত আজ প্রতিটি মুসলিমের হৃদয়ে এক নতুন বিপ্লবের বীজ বপন করেছে। আমরা দক্ষিণ এশিয়ার মুসলিম যুবকদের প্রতি আহ্বান জানাই, শাইখ হানিয়ার আপসহীন নেতৃত্ব এবং আল-আকসার প্রতি তাঁর অগাধ ভালোবাসা নিজেদের জীবনে ধারণ করুন। জায়নবাদী ও তাদের দোসরদের বিরুদ্ধে বুদ্ধিবৃত্তিক, অর্থনৈতিক ও নৈতিক লড়াই জোরদার করুন। মনে রাখবেন, বিজয়ের পথ কুসুমাস্তীর্ণ নয়। এই পথ ত্যাগের এবং শাহাদাতের।
আমরা এই শোকের মুহূর্তে ফিলিস্তিনি ভাইদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়েছি। আমরা অঙ্গীকার করছি যে, শাইখ হানিয়ার রেখে যাওয়া অসমাপ্ত কাজ অর্থাৎ পবিত্র জেরুজালেম এবং আল-আকসা মসজিদকে দখলদার মুক্ত করার আগ পর্যন্ত আমাদের এই কণ্ঠ ও কলম থামবে না এবং হিন্দুস্তানে ইহুদিদেরকে আমরা নিরাপদ থাকতে দেবো না ইনশাআল্লাহ। তাঁর পবিত্র রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া হবে না; ইনশাআল্লাহ এই রক্তই হবে জায়নবাদী সাম্রাজ্যের পতনের কারণ।
হে আল্লাহ! শাইখ ইসমাইল হানিয়াকে জান্নাতুল ফেরদাউসের উচ্চ মাকাম দান করুন এবং ফিলিস্তিনিদের বিজয় ত্বরান্বিত করুন। আমিন।
১৬. সিরিয়ায় আহলুস সুন্নাহর বিজয়ে জামাআতুল মুজাহিদীন এর শুভেচ্ছা বার্তা
তারিখ: ০৮ ডিসেম্বর, ২০২৪ ঈসায়ী । ০৭ জমাদিউস সানি ১৪৪৬ হিজরী
বিবৃতি নং- জিম.মিম_১৪৪৬_০০২
সমস্ত প্রশংসা সেই অধিপতির, যিনি তাঁর অনুগত বান্দাদের জন্য এই জমিনে খিলাফত ও বিজয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। যিনি মুমিনদের হৃদয়ে প্রশান্তি দান করেন এবং তাদের মনোবলকে পাহাড়ের মতো দৃঢ় করে দেন।
অগণিত দরুদ ও সালাম সেই রাহবার বা নেতার প্রতি, যিনি আমাদের শিখিয়েছেন, প্রকৃত বিজয় আসবে কেবল তাওহীদের পথে চলার মাধ্যমেই।
সিরিয়ার মাজলুম জনগণের দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময়ের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ, অগণিত শাহাদাত এবং অদম্য ধৈর্যের পর দামেস্কের মসনদ থেকে কুখ্যাত স্বৈরাচার বাশার আল আসাদের পতনে আমরা মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি। একইসাথে, এই ঐতিহাসিক বিজয়ের রূপকার ভাই আবু মোহাম্মদ আল-জুলানি এবং তাঁর নেতৃত্বাধীন বীর মুজাহিদদের প্রতি জানাই আমাদের বিপ্লবী মোবারকবাদ ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সালাম।
একটি অন্ধকার অধ্যায়ের অবসান হলো। বাশার আল আসাদের পতন কেবল একটি সরকারের পতন নয়, বরং এটি কয়েক দশকের জুলুম, রাসায়নিক হামলা, গণগ্রেপ্তার এবং নিজ দেশের জনগণের ওপর চালানো পৈশাচিক গণহত্যার অবসান। সিরিয়ার মাটি আজ সেই অপশক্তির হাত থেকে মুক্ত হলো যারা বিদেশি শক্তির মদদে নিজের দেশের শহরগুলোকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছিল। এই বিজয় প্রমাণ করে যে, কোনো জালেম শক্তিই অনন্তকাল টিকে থাকতে পারে না। নতুন সিরিয়া ও ইসলামী ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত হওয়া নিয়ে আমরা সুধারণা রাখি। আমরা আশা করি, এই বিজয়ের পর সিরিয়ায় এমন একটি শাসনব্যবস্থা কায়েম হবে যা হবে শরীয়াহ ভিত্তিক এবং যেখানে প্রতিটি নাগরিকের অধিকার সুরক্ষিত থাকবে। আমরা আশা করি আহলুস সুন্নাহর মুজাহিদগণ এটা ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করবেন ইনশাআল্লাহ। আমরা আবু মোহাম্মদ আল-জুলানি এবং তাঁর প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাই যেন তারা বিভেদ ভুলে সকল পক্ষকে ঐক্যবদ্ধ করে একটি স্থিতিশীল ও শক্তিশালী সিরিয়া পুনর্গঠনে মনোনিবেশ করেন।
সিরিয়ার এই পরিবর্তন সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য এবং দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিটি মুক্তিকামী মানুষের জন্য এক বিশাল বার্তা। এটি দখলদার ইসরায়েল এবং তাদের দোসরদের জন্য একটি চরম সতর্কবাণী। সিরিয়ার মুক্তি মানেই আল-আকসা মুক্তির পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া। আমরা বিশ্বাস করি, দামেস্কের এই বিজয় অদূর ভবিষ্যতে জেরুজালেম বিজয়ের পথ প্রশস্ত করবে ইনশাআল্লাহ।
দক্ষিণ এশিয়ার জিহাদি আন্দোলনের কর্মীগণ সিরিয়ার ভাইদের এই খুশিতে আজ আনন্দিত। আমরা আপনাদের উত্তরোত্তর সাফল্য এবং সিরিয়ার জমিনে শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করছি। যারা এই দীর্ঘ লড়াইয়ে শহীদ হয়েছেন, আল্লাহ তাদের শাহাদাত কবুল করুন এবং যারা পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন তাদের উত্তম প্রতিদান দিন। আমিন
১৭. নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অপূর্ব পাল কর্তৃক পবিত্র কুরআন গ্রন্থ অবমাননার ঘটনায় জামা’আতুল মুজাহিদীনের বিবৃতি
তারিখ: ০৭ আগস্ট, ২০২৫ ঈসায়ী । ১৩ সফর, ১৪৪৭ হিজরী
বিবৃতি নং- জিম.মিম_১৪৪৭_০০১
যাবতীয় প্রশংসা সেই মহান রবের জন্য যিনি তার পবিত্র কিতাবকে সম্মানিত করেছেন, পরিপূর্ণ করেছেন এবং সমগ্র মানবজাতির হিদায়াতের জন্য নাযিল করেছেন। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক সর্বশেষ ও শ্রেষ্ঠ নবীর উপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবায়ে কেরাম এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাঁর হেদায়েতের পথে চলবে, তাদের সকলের উপর।
গত ৪ ই অক্টোবর সকাল অনুমানিক ৯ টার দিকে, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের NAC-2 ভবনে কুরআনের উপর পা দিয়ে লাথি মেরে সেই দৃশ্য ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করে এই কুলাঙ্গার অপূর্ব পাল। কুরআনকে অবমাননা করার সময় আশেপাশের শিক্ষার্থীরা তাকে বাধা দিতে গেলে সে তাদের সাথেও অশোভন আচরণ করে।
হে গায়রত সম্পন্ন মুসলিম উম্মাহ, আমাদের নিজেদেরকে প্রশ্ন করা উচিত, তিতুমীর-শাহজালালের এই ভূমি কি ইউরোপের সুইডেনে পরিণত হলো নাকি পশ্চিমের আমেরিকায়? আমাদের নিজেদেরকে প্রশ্ন করা উচিত, ২০২০ সালের পর থেকে নাস্তিক-শাতেমদের প্রকাশ্য ইসলাম অবমাননার ঘটনা কেন দিন-দিন বেড়েই চলেছে? আমাদের নিজেদেরকে প্রশ্ন করা উচিত, কাদের ইন্ধনে এগুলো ঘটছে এবং কারা বিচারের নামে নিরাপত্তা দিয়ে প্রহসন করছে?
হে প্রিয় উম্মাহ, নাস্তিক-শাতেমদের পাওনা মিটিয়ে দেওয়া এটা শুধু নির্দিষ্ট কোনো জিহাদি জামাআতের দায়িত্ব নয় বরং এটা সমগ্র মুসলিম উম্মাহর দায়িত্ব। আজ দীর্ঘদিন হয়ে যাচ্ছে, বাংলার ভূমি কোনো শাতেমের রক্তে ভেজানো হয়নি। যার ফলাফল, আজ কুরআন অবমাননা হয়েছে এমন একটি রাষ্ট্রে যেখানের অধিকাংশ নাগরিক ইমানদার। তাই এটা আমাদের ইমানের দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। আমরা তাদের সামনে কিভাবে দাড়াবো যারা পবিত্র ভূমি রক্ষার জন্য ইসরায়েলের আগ্রাসী আক্রমণের নিরীহ শিকার হচ্ছেন? অথচ পবিত্র কুরআনের ইজ্জত রক্ষার জন্য আজ আমরা বেছে নিচ্ছি প্রচলিত গণতান্ত্রিক উপায়ে প্রতিবাদের পদ্ধতি! সুতরাং সময় এসেছে, দিল্লি-ওয়াশিংটনের গোলামী করা সরকারের কাছে বিচার না চেয়ে নিজেরাই বিচার করা। নববী সুন্নাহকে জিন্দা করার সময় এসেছে। প্রমাণ করার সময় এসেছে আমরা কুরআনের হিফাযত করতে জানি।
প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত দ্বীনি ভাইদের প্রতি আহ্বান, যেই সহশিক্ষার পরিবেশে তারা কুরআনকে অবমাননা করেছে, আপনারা সেই পরিবেশেই কুরআনকে সম্মানিত করুন। প্রত্যেকটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় হওয়া উচিত কুরআনের এক-একটি দূর্গ। যেখানে নিয়মিত কুরআনের তিলাওয়াত, কুরআনের দারস, কুরআন নিয়ে গবেষণা এবং কুরআনের বিধানগুলো সমাজে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে ইনশাআল্লাহ। বর্তমান উত্তপ্ত পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে কুরআনের পরিবেশের ভিত্তি স্থাপন করুন। তারা চক্রান্ত করছে, আপনারা কৌশল গ্রহণ করুন।
হে আল্লাহ, আমাদের দূর্বল ইমানের জন্য আমাদের ক্ষমা করুন। আমাদের হাতকে শক্তিশালী করুন যেন আমরা আপনার কিতাবের সম্মান রক্ষা করতে পারি।
১৮. সুদানে নিরীহ মুসলিমদের উপর আরব জায়নবাদীদের চালানো পরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞ প্রসঙ্গে বিবৃতি
তারিখ: ১১ নভেম্বর, ২০২৫ ঈসায়ী । ১৯ জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৭ হিজরী
বিবৃতি নং- জিম.মিম_১৪৪৭_০০২
যাবতীয় প্রশংসা সেই মহান রবের প্রতি, যিনি ‘আল-আদিল’ ; যার রাজ্যে জুলুমের কোনো স্থান নেই এবং যার দৃষ্টি থেকে জালিমের একটি তলোয়ারও আত্মগোপন করতে পারে না। প্রশংসা সেই সত্তার, যিনি ‘আল-কাহহার’; যিনি দাম্ভিক ও খুনিদের পাকড়াও করেন এবং যার ফয়সালা আসার পর পৃথিবীর কোনো পরাশক্তিই মজলুমের রক্ত নিয়ে ছিনিমিনি খেলার সুযোগ পায় না।
দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সেই দয়ার নবীর (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম.) এর প্রতি, যিনি মজলুমের অশ্রু মুছতে শিখিয়েছেন। যিনি সতর্ক করে বলেছেন “এক মুমিনের রক্ত অন্য মুমিনের ওপর হারাম।” সালাম সেই নেতার প্রতি, যিনি কিয়ামতের ময়দানে তাঁর রক্তাক্ত উম্মতের হয়ে মহান আল্লাহর দরবারে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করবেন।
সুদানের পবিত্র মাটিতে আজ মুসলিমদের রক্তে নিয়ে যে খেলা চলছে, তা কেবল একটি গৃহযুদ্ধ নয়; বরং এটি উম্মাহর পিঠে এক বিষাক্ত খঞ্জর বসানোর নামান্তর। বিশেষ করে পশ্চিম দারফুর থেকে শুরু করে খার্তুমের অলিগলিতে নিরীহ নারী, শিশু এবং বৃদ্ধদের ওপর যে পরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞ ও গণধর্ষণ চালানো হচ্ছে, আমরা তার তীব্রতম নিন্দা ও ঘৃণা প্রকাশ করছি।
আমরা অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে লক্ষ্য করছি যে, এই গণহত্যার পেছনে রয়েছে সেই তথাকথিত ‘আরব জায়নবাদী’ চক্র, যারা একদিকে ফিলিস্তিনের রক্ত নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে, আর অন্যদিকে সুদানের খনিজ সম্পদ ও কৌশলগত অবস্থান দখলের নেশায় মাতোয়ারা। এরা ইসলামের নাম নিলেও আসলে ইহুদিবাদী ও সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বিশ্বস্ত তল্পিবাহক। সুদানের দ্রুত হস্তক্ষেপ বাহিনী (RSF) এবং তাদের মদদদাতা আঞ্চলিক দেশগুলো আজ মুসলিম বিশ্বের জন্য এক মরণব্যাধি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। সুদানে যা ঘটছে তা স্রেফ রাজনৈতিক বিরোধ নয়, বরং এটি একটি পরিকল্পিত জাতিগত নিধন। জায়নবাদী প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী সুদানকে খণ্ড-বিখণ্ড করার এবং সেখানে একটি আজ্ঞাবহ পুতুল শাসন কায়েম করার যে নোংরা খেলা চলছে, তার শিকার হচ্ছে সাধারণ শান্তিকামী মুসলিম জনতা। গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে, ইবাদতের স্থানগুলো অপবিত্র করা হচ্ছে এবং উলামায়ে কেরামদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে, এসবই সেই নীল নকশার অংশ।
মুসলিম উম্মাহর প্রতি আহ্বান: সুদানের এই সংকটকালে আমরা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা মুসলিমদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি, যারা মুখে আরব ঐক্যের কথা বলে কিন্তু তলে তলে মুসলিম রক্ত ঝরায়, সেই ছদ্মবেশী মুনাফিকদের বয়কট করুন। সুদানে যারা এই বর্বরতা চালাচ্ছে, তারা ইসলামের কোনো আদর্শ ধারণ করে না। সুদানের নির্যাতিত ভাই-বোনদের জন্য প্রতিটি মসজিদে ও ব্যক্তিগত দোয়ায় বিশেষ মুনাজাত করুন। মনে রাখবেন, একজনের ব্যথা সারা উম্মাহর ব্যথা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে রাজপথ পর্যন্ত, সুদানের এই গণহত্যার বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলুন। জায়নবাদী এজেন্ডা বাস্তবায়নকারীদের বিশ্বজুড়ে লজ্জিত ও একঘরে করে দিন।
আমরা সুদানের মাটিতে লড়তে থাকা মজলুমদের আশ্বস্ত করছি, আপনাদের এই ত্যাগ বৃথা যাবে না। রক্তচোষা এই আরব জায়নবাদী চক্রের পতন অনিবার্য। যারা নিরীহ মানুষের রক্ত দিয়ে হাত রাঙিয়েছে, ইতিহাস সাক্ষী তারা লাঞ্ছিত হয়ে বিদায় নিয়েছে। ইনশাআল্লাহ, নীল নদের অববাহিকায় পুনরায় ইসলামের ইনসাফ কায়েম হবে এবং জালিমদের বিচার করা হবে।

মন্তব্য